1. mh.technical.event@gmail.com : admi2017 :
  2. hbdnews24@gmail.com : HBD HBD : HBD HBD
  3. radiodurbar2012@gmail.com : HBDNEWS24BD :
  4. helalkhan498@gmail.com : HBD News : HBD News
  5. vocalprincemamun@gmail.com : Prince Mamun :
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন

ই–অরেঞ্জের গ্রাহকেরা যা করতে পারেন, ইভ্যালি টাকা ফেরতে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

লোভনীয় দামে পণ্য কেনার ফাঁদে আটকে যাওয়া শত শত গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রতারক কোম্পানির সম্পত্তি ক্রোকের পর তা বিক্রি করার নতুন বিধান তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে যেসব কোম্পানি মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকায় অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে, সেসব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে মানুষের টাকা মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো হবে। প্রতারক কোম্পানির সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রির জন্য আলাদা বিধান করা উচিত। বিদ্যমান আইনে কোনো মামলার আসামি দণ্ডিত হওয়ার পর সম্পত্তি ক্রোকের বিধান রয়েছে। কিন্তু ওই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’

ইভ্যালির মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিন

ইভ্যালির মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিন
ফাইল ছবি

প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল এবং তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিন। বর্তমানে তাঁদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর আগে ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া মেহজাবিনসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা গত ১৭ আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন।

ইভ্যালির গ্রাহকদের কীভাবে টাকা ফেরত দেওয়া হবে, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ প্রথম আলোকে বলেন, ইভ্যালি তো অস্বীকার করছে না যে তারা টাকা নেয়নি কিংবা টাকা ফেরত পাবেন না। রাসেল ও তাঁর স্ত্রী যদি জামিনে ছাড়া পান, তারপর নিশ্চয় তাঁরা গ্রাহকের টাকা কিংবা পণ্য ফেরত দেবেন।

অবশ্য গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে ই–অরেঞ্জের উদ্যোক্তা সোনিয়া মেহজাবিনের আইনজীবী মামুনুর রশীদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের দায় মেহজাবিন কিংবা তাঁর স্বামীর নয়। গত এপ্রিল মাসে বীথি আক্তার নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিষ্ঠানটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগেও যুবক, ডেসটিনি কিংবা ইউনিপেটুইউর মতো প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় ফাঁদে আটকা পড়ে হাজার হাজার গ্রাহক টাকা খুইয়েছেন, কিন্তু কেউই তাঁদের টাকা ফেরত পাননি। বেশি লাভের আশায় টাকা বিনিয়োগ করে পথে বসে গেছেন অনেক গ্রাহক।
এসব ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ এবং ব্যক্তির পক্ষ থেকেও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। সেসব মামলার বেশির ভাগ বিচারাধীন। অবশ্য ইউনিপেটুইউর ২৫৫ জন গ্রাহক টাকা আদায়ের জন্য ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামানসহ ১৫ জনকে বিবাদী করে ২০১৮ সালে ঢাকায় দেওয়ানি আদালতে ‘মানি মোকদ্দমা’ করেন। এই মামলার বিচার চলমান।

ই–অরেঞ্জের উদ্যোক্তা সোনিয়া মেহজাবিন। ফাইল ছবি

ই–অরেঞ্জের উদ্যোক্তা সোনিয়া মেহজাবিন। ফাইল ছবি

বর্তমানে ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালিসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কম দামে পণ্য বিক্রির লোভনীয় ফাঁদে যাঁরা আটকে গেছেন, সেসব গ্রাহকের কথা চিন্তা করে সরকারকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রাহকেরা প্রতারিত হয়ে টাকা না পাওয়াটা দুঃখজনক। সরকারের উচিত, যেসব কোম্পানি গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া উচিত রাষ্ট্রের। যাকে মানুষ টাকা দিল, তার যদি সম্পত্তি থাকে, সেটা ক্রোক করে বিক্রি করে যতটুকু সম্ভব গ্রাহককে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

টাকা আদায়ে ‘মানি মোকদ্দমা’

একজন গ্রাহক প্রতারিত হয়ে টাকা খোয়ালে, বিদ্যমান ফৌজদারি আইন অনুযায়ী থানা কিংবা আদালতে বিচার চেয়ে ফৌজদারি মামলা করতে পারেন। মামলার পর অভিযুক্তের সম্পদ দেখভালের জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিধান রয়েছে। বিচার শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তি দণ্ডিত হলে আদালত অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। এর বাইরে প্রতারিত গ্রাহক বিদ্যমান দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী টাকা আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতে ‘মানি মোকদ্দমা’ দায়ের করতে পারেন। ব্যক্তির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এটি কার্যকর আইনি পদক্ষেপ বলে জানান আইনজ্ঞরা। অবশ্য কোনো কোম্পানি কিংবা ব্যক্তি যদি পাওনাদারকে চেক দেন, আর সেই চেক যদি ডিজঅনার (চেক প্রত্যাখ্যান) হয়, সে ক্ষেত্রেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টে এই মামলা করতে হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারিত হন, তিনি ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী টাকা আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতে মানি মোকদ্দমা করতে পারেন। বাদী যদি তাঁর দাবি আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তাহলে আদালত বাদীর পক্ষে ডিক্রি দেন।’
অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মনে করেন, মানি মোকদ্দমা নিষ্পত্তি একটা লম্বা আইনি প্রক্রিয়া। বাদী মামলা করলে বিবাদীপক্ষ সব সময় তৎপর থাকেন, কীভাবে মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়। তবে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ‘মানি মোকদ্দমা’ই একমাত্র আইনি সমাধান।

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক টাকা আদায়ের জন্য কোম্পানি কিংবা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারেন। এটি কার্যকর আইনি পদক্ষেপ।

অতি মুনাফার ফাঁদে ফেলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যুবক, ইউনিপেটুইউ এবং ডেসটিনির বিরুদ্ধে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে।

ইউনিপেটুইউ নামে প্রতিষ্ঠানটি ১০ মাসে বিনিয়োগের দ্বিগুণ গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার ফাঁদ পাতে। স্বর্ণে বিনিয়োগ করার স্কিমও নেয়। হাজার হাজার গ্রাহক এ ফাঁদে পা দেন। এ ঘটনায় ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা ঢাকার আদালতে নিষ্পত্তি হয় ২০১৯ সালে। ওই মামলায় ইউনিপেটুইউর চেয়ারম্যানসহ ছয় কর্মকর্তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের ২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন

এ ছাড়া ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুলসহ ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়। দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দুটি ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, এমডি রফিকুল আমীন।

অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি বা যুবক। ২০০৫ সালে যুবকের প্রতারণামূলক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকলে তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগে তখন যুবকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর এক দফা সময় বাড়িয়ে ২০০৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যুবককে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এ টাকা গ্রাহকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে অর্থ মন্ত্রণালয়, নাকি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, তা নিয়ে কেটে যায় কয়েক বছর। অবশ্য ঘটনার এত বছরেও ৩ লাখ ৪ হাজার গ্রাহক তাঁদের পাওয়া ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ফেরত পাননি।

গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা হলেও ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা টাকা ফেরত না পেয়ে দিনের পর দিন হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ

এ প্রসঙ্গে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার জন্য গ্রেপ্তার করা বা না করা, এটি কোনো বিষয় নয়। যদি কেউ অপরাধী হয়ে থাকেন, তিনি আইনের আওতায় আসবেন। কিন্তু প্রচলিত নিয়ম অনুসারে যদি কেউ অন্যায় করে থাকেন, তাহলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে বড় স্পর্শকাতর বিষয় হলো, কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো, আইনের আওতায় তাঁকে আনা হলো, তারপর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকল। এর মাঝখানে লাখ লাখ গ্রাহক টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন, তাঁরা পথে বসে গেলেন। প্রথম দিকে একজন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে, তাঁর কাছে যেসব সম্পদ আছে, সেগুলো রক্ষা করে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সেটিই বিবেচ্য বিষয়।’

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ মোশাররফ হোসেন কাজল আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয় না। গ্রাহকের স্বার্থ যদি সংরক্ষণ না করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অতীতে এ রকম গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন লম্বা তালিকা রয়েছে। গ্রাহক কীভাবে টাকা ফেরত পাবেন, তাঁদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য অবিলম্বে এই সব প্রতিষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা উচিত এবং প্রতিষ্ঠানগুলো চলমান রাখা দরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2021 Hbd news